Bengali Shayari

সমর সেন এর লেখা মহুয়ার দেশ কবিতার বিষয়বস্তু

Spread the love

মহুয়ার দেশ

 সমর সেন

 

আলোচনা বাপ্পাদিত্য মুখোপাধ্যায়   

মাঝে মাঝে সন্ধ্যার জলস্রোতে

অলস সূর্য দেয় এঁকে

গলিত সোনার মতো উজ্জ্বল আলোর স্তম্ভ,

আর আগুন লাগে জলের অন্ধকারে ধূসর ফেনায়।

সেই উজ্জ্বল স্তব্ধতায়

ধোঁয়ার বঙ্কিম নিঃশ্বাস ঘুরে ফিরে ঘরে আসে

শীতের দুঃস্বপ্নের মতো।

অনেক, অনেক দূরে আছে মেঘ-মদির মহুয়ার দেশ,

সমস্তক্ষন সেখানে পথের দুধারে ছায়া ফেলে

দেবদারুর দীর্ঘ রহস্য,

আর দূর সমুদ্রের দীর্ঘশ্বাস

রাত্রের নির্জন নিঃসঙ্গতাকে আলোড়িত করে।

আমার ক্লান্তির উপরে ঝরুক মহুয়া-ফুল,

নামুক মহুয়ার গন্ধ।

এখানে অসহ্য, নিবিড় অন্ধকারে

মাঝে মাঝে শুনি

মহুয়া বনের ধারে কয়লার খনির

গভীর, বিশাল শব্দ,

আর শিশিরে-ভেজা সবুজ সকালে

অবসন্ন মানুষের শরীরে দেখি ধুলোর কলঙ্ক,

ঘুমহীন তাদের চোখে হানা দেয়

কিসের ক্লান্ত দুঃস্বপ্ন।

মহুয়ার দেশ

মহুয়ার দেশ কবিতার বিষয়বস্তু  

আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই কোথাও না কোথাও এক মহুয়ার দেশ রয়েছে, যখন আমরা জীবনরস পানে ক্লান্তি অনুভব করি তখন শ্রান্ত ছায়ায় আশ্রয় নেওয়ার জন্য সেই মহুয়ার দেশে বারবার ফিরে যাই। আসলে মহুয়ার দেশ হল এমন এক স্থান যেখানে জীবন জীবনের মানে খুঁজে পায়। যেখানে ক্লান্ত চোখের উপর ঝরে পড়ে মহুয়ার ফুল। নীরস জীবনে নেমে আসে মদিরার নেশা। 

‘মহুয়ার দেশ’ এই কবিতাটি কবি সমর সেনের লেখা ‘কয়েকটি কবিতা’- কাব্য গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। সমর সেনের এই কবিতাটি মূলত ভাব ভিত্তিক একটি কবিতা। যেখানে কবিমনের আত্মিক প্রকাশ ঘটেছে। আমাদের প্রত্যেকের মনেই একটি আকাঙ্ক্ষার জায়গা থাকে যে একঘেয়েমি জীবন থেকে ক্ষণিকের মুক্তি কীভাবে লাভ করা যায় তা ভেবে, ‘হেথা নয় হেথা নয় অন্য কোথা অন্য কোনখানে’ করে ঘুরে বেড়ায়।  কবি মনও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রতিনিয়ত একঘেয়েমি অভ্যাসে তিনিও ক্লান্তি অনুভব করেছেন এবং কীভাবে এই ক্লান্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তারই পথ খুঁজেছেন বারংবার। 

আমাদের দুচোখ জুড়ে যান্ত্রিক সভ্যতার আগ্রাসন আমাদের মনেও তার প্রভাব। আমরা যত দূরই হেঁটে যাই না কেন যান্ত্রিক সভ্যতা আমাদের পিছু পিছু চলে আসে। গ্রাম রূপান্তরিত হয় নগরে; নগর পরিণত হয় মহানগরে। হারিয়ে যায় মহুয়ার দেশ, জেগে থাকে শুধু স্মৃতিগুলো। 

নগর জীবনের ইট কাঠ পাথরের মাঝে যন্ত্র সভ্যতার অবাধ বিচরণ মানুষের মনের ভাব ভালবাসাকে একেবারেই মুছে দিয়ে ক্রমাগত যন্ত্রে পরিনত করেছে। তবুও তারাও তো মানুষ। তাদেরও তো নিজস্ব চাহিদা আছে, কিন্তু আধুনিক সভ্যতা তাদেরকে কোনো ভাবেই প্রকাশ হতে দিচ্ছে না। কবি এই জীবনের সমর্থক নন। 

সেজন্যই কবি মহুয়ার দেশ কবিতাতেই বলেন,-

 “মাঝে মাঝে সন্ধ্যার জলস্রোতে

অলস সূর্য দেয় এঁকে

গলিত সোনার মতো উজ্জ্বল আলোর স্তম্ভ,

আর আগুন লাগে জলের অন্ধকারে ধূসর ফেনায়।

সেই উজ্জ্বল স্তব্ধতায়

ধোঁয়ার বঙ্কিম নিঃশ্বাস ঘুরে ফিরে ঘরে আসে

শীতের দুঃস্বপ্নের মতো।”

কারণ কবি মনে করেন, শহরের বুক চিঁরে যে সূর্যের আলো সন্ধ্যার আকাশে দেখা দেয় এই সৌন্দর্য চিরায়ত নয়। কবি মন তাই দূর থেকে অনুভব করেন গ্রাম বাংলার সৌন্দর্যকে। যেখানের প্রাকৃতিক পরিবেশ কবিকে মহুয়ার রস পানের তৃপ্তি দেবে । যেখানে থাকবে না ক্রমাগত ছুটে চলার অভিপ্রায় , থাকবে না কোনো ক্লান্তি। শুধু পথের দুধারে থাকা দেবদারু ও মহুয়ার গাছের ছায়া কবিকে আচ্ছাদিত করবে , নিঃসঙ্গতাময় জীবনকে আলোড়িত করবে। এমন এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশেই কবি ছুটে চলে যেতে চান।

কিন্তু সেই মহুয়ার দেশ এখন শুধুই স্মৃতি, সেখানেও শিকারি চিতার মতো নেমে এসেছে যন্ত্রসভ্যতার থাবা। যে কবিমন মুক্তির সন্ধানে মহুয়ার মদিরতা পানের আশায় এসেছিল সে মন ব্যর্থতা নিয়ে ফিরে যায় স্মৃতির বালুকা বেলায়।

মহুয়ার দেশ কবিতার দ্বিতীয় অংশ    

কবিতার দ্বিতীয় অংশটি একটি গ্রামের চিত্র। কবি অনুভব করেন সেই আকাঙ্ক্ষিত গ্রাম কবিকে সেই আগের অনুভূতি আর দিতে পারে না। সেখানেও কোনো স্নিগ্ধতা নেই আছে কয়লা খনির গভীর বিশাল শব্দ। শহুরে জীবনের থেকেও কয়লা খনির জীবন আরো ভয়াবহ। সেখানে প্রবল উত্তাপের মাঝে সারি সারি শ্রমিকেরা কেবল যন্ত্রের মত জীবন কিনতে একমুঠো ভাতের জন্য লড়ে যায়। তাদের কোনো ক্লান্তি নেই। এমন এক পরিবেশ কখনই কবিকে স্নিগ্ধতার রসে ভেজাতে পারেন না। বরং ব্যথা দেয় বারবার।

 শিশির মাখা সবুজ সকালেও ধুলোর কলঙ্ক গায়ে মেখে তাদেরকে বেঁচে থাকতে হয়, আর ঘুমহীন ক্লান্ত চোখে দুঃস্বপ্নরা হানা দিয়ে যায়। যদিও রবির মতো কবি সমর সেনও জানেন,-

“ওরা চিরকাল

টানে দাঁড়, ধরে থাকে হাল;

ওরা মাঠে মাঠে

বীজ বোনে, পাকা ধান কাটে।

ওরা কাজ করে

নগরে প্রান্তরে।”

কিন্তু গ্রামের আশ্রমিক পরিবেশ নষ্ট হয় শ্রমিকের পদতলে। বাড়ির দেওয়ালে গাছ এঁকে পাখিকে রাখলে যেমন দশা হবে কবির দশাও ঠিক তেমনই। এখানের মহুয়ায় সেই মদিরতা আর নেই। সেই সুখ শান্তি সব এখন ধূসর স্মৃতি।

তাই মহুয়ার গন্ধের বদলে মহুয়ার রস পান করেই ভুলে থাকতে হয় কবিকে।

মহুয়ার দেশ কবিতা সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা থাকলে এখানে কমেন্ট করে জিজ্ঞাসা করতে পারো, আমরা তোমার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

আমাদের অন্যান্য জনপ্রিয় লেখাগুলি পড়ুন

Related article:- 

bangla premer kobita

bangla romantic quotes

18 bangla romantic kobita

ekusher kobita

shesher kobita

bangla picture message

bangla kobita love

valobashar kobita

prem bangla kobita

bangla kobita blog

bangla romantic sms

Download bangla Shayari

bangla sms kobita

bangla love sms

bangla love poem

valobasar kobita

bangla romantic Shayari veletine

Bangla koster kobita

bangla premer kobita collection

Very sad shayari

love kobita

bangla valobashar kobita

bangla sms

premer kobita

bangla love poem romantic

bangla love sad sms

Bangla sad shayari

Bangla very sad sms

Bengali sad shayari photo

Exit mobile version