Bengali Shayari

Ma Mansa মা মনসা, মনসামঙ্গল কাব্য

Spread the love

Download Ma Mansa image:- আমরা আজকের আলোচনায় মা মনসা (Ma Mansa) আবির্ভাব থেকে পূজা প্রচলন পর্যন্ত বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করব। এখানে দেবো বেশকিছু Ma Mansa Image.

Ma Mansa মা মনসা

Ma Mansa মা মনসা আবির্ভাব 

Ma Mansa মা মনসা

‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের দেবী ‘মনসা’ শব্দটির উৎপত্তি কিরকম ভাবে হয়েছিল তা এখনো পর্যন্ত অজ্ঞাত রয়ে গেছে। মনসা সম্বন্ধে সন্ধান করে যে যে তথ্য পাওয়া গেছে তা হলো, দক্ষিণ ভারতে কর্ণাটক নিম্নবর্তী ও জাতি ‘মনে মঞ্চমা’ নামে এক সর্পণীর পূজা করত। মনে করা হয় এই ‘মঞ্চ’ শব্দ থেকে মনসা শব্দ এসেছে। আবার পাণিনির ব্যাকরণেও ‘মনসো নাম্নি’ সূত্রেও মনসার নাম পাওয়া যায়।

ডক্টর আশুতোষ ভট্টাচার্যের মতে ছোটনাগপুরের সিংভূম, মানভূম, বীরভূম ইত্যাদি জেলা থেকে ‘মনসা’ নামটি বাংলায় সম্প্রসারিত হয়েছিল। বুদ্ধ মহাযান সম্প্রদায়ের উপাসনা পদ্ধতিতে যে ‘মহাময়ূরী দেবী’ বা ‘জাঙ্গুলী তারা’ নামে যে দেবীর কথা উল্লেখ করা আছে সেই দেবী যে মনসা সে সম্পর্কে কারো মতভেদ নেই।

অন্যান্য কাব্যের মতো এখানেও ‘দেব খন্ড’ ‘নরখন্ড’ নামে দুটি পৃথক খন্ড দৃশ্যমান তবে কাহিনীর ক্লাইম্যাক্স আছে শেষ খন্ডে। চন্দ্রধর বা চাঁদ সদাগরকে কেন্দ্র করেই মনসামঙ্গল কাহিনী সৃষ্টি।

ভাবে ভাষায় বর্ণনায় অন্যান্য মঙ্গলকাব্য গুলি গুণগতমান দিয়ে বা সাহিত্যমূল্য বিচারে মনসামঙ্গলের চেয়ে কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকলেও থাকতে পারে কিন্তু জনপ্রিয়তার বিচারে মনসামঙ্গল কাব্যের সমকক্ষ কোন মঙ্গলকাব্যই নয়। এর প্রধান কারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের সুখ-দুঃখ হাসি-কান্না এই কাব্যে বর্ণিত হয়েছে সুনিপুণ ভাবে।

Ma Mansa

মনসা মঙ্গল কাব্যের কবিঃ-

মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি হলেন কানা হরিদত্ত যদিও উনার কোনো পুঁথি পাওয়া যায়নি।মনসামঙ্গল কাব্যের কবি হিসেবে বিজয়গুপ্ত খুবই জনপ্রিয় অন্তত পূর্ববঙ্গে। তাঁর গ্রন্থের নাম্ম,- “পদ্মপুরাণ

মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যান্য জনপ্রিয় কবি হলেন বিপ্রদাস পিপলাই, নারায়ন দেব, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ।


মনসা মঙ্গল কাব্যের কাহিনি, story of Manasa Mangal 

Ma Mansa
মঙ্গলকাব্যের মূলচরিত্রের মতোই চাঁদ সওদাগর পূর্বজন্মে স্বর্গে সুখে জীবন কাটাচ্ছিলো। দেবী মনসার একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলো সে। কিন্তু একবার ঘটলো এক বিড়ম্বনা। মনসা দেবীর সাথে ভীষণ বচসা হলো তার। সেই ঝগড়ার ফলে স্বর্গচ্যুতি ঘটলো চাঁদের। তাকে পুনরায় মানুষ হয়ে জন্মাতে হবে পৃথিবীতে। সহ্য করতে হবে যাবতীয় পার্থিব দুঃখ-কষ্ট। চাঁদও ভীষণ ক্ষেপে গিয়ে বলে আসলো, তাকে ছাড়া দেবী মনসা অচল। চাঁদ সওদাগরের সাহায্য ছাড়া পৃথিবীতে তেমন ভক্ত পাবে না সে। পরের জন্মে চাঁদ আবার জন্মালে দেবী মনসা কীভাবে পূজা পায়, তা সে দেখে নেবে।
আরও পড়ুনঃফেসবুক থেকে আয় করার পদ্ধতি
যথারীতি পরবর্তী জন্মে আবার জন্মালো সে চাঁদ সওদাগর হয়ে। এবারে সে হয়ে উঠলো শিবের একনিষ্ঠ ভক্ত। বাংলায় শিবের ভক্ত বাড়াবাড়ি রকমের বেড়ে যাচ্ছিলো। চাঁদ সওদাগরও অংশ নিলো সেই মিছিলে। এদিকে ব্যবসা-বাণিজ্য করেও ফুলেফেঁপে উঠলো সে। তার নৌবহর ব্যবসা করে বেড়াতো এই অঞ্চল-ঐ অঞ্চলের নানা হাটবাজারে। ব্যবসার লাভ সে অকাতরে ঢালছিলোও শিবের পুজো করে। তার বাড়িতে শিবভক্তদের উপাসনা আর পদচারণায় গমগম করতো সবসময়। শিবমন্দিরও বানিয়ে দিয়েছিলো সে।
দেবী মনসার ভীষণ ইচ্ছে হলো লক্ষ্মী, সরস্বতি আর শিবের মতো শক্তিধর দেবসত্তা হবার। বিশাল সংখ্যক ভক্তকূল পাবার। তাই সে এলো চাঁদ সওদাগরের কাছে। এসে বললো, সমাজে তার পূজা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কিন্তু চাঁদ সওদাগর তাকে দেবী বলে মানতেই নারাজ। ফলে দেবী মনসাও গেলো ক্ষেপে। হুমকি দিলো, মনসাপুজো না করলে চরম অত্যাচার নেমে আসবে চাঁদের উপরে। তার বংশ নির্বংশ করে দিবে সে। চাঁদ সওদাগরও তাচ্ছিল্য করে তাকে তাড়িয়ে দিলো।
আবার এমন বর্ণনাও পাওয়া যায়, চাঁদ সওদাগর ছিলো শিবের ভক্ত, কিন্তু তার স্ত্রী ‘সনকা’ ছিলো দেবী মনসার ভক্ত। একদিন স্ত্রী সনকাকে মনসাপূজা করতে দেখে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলো চাঁদ সওদাগর। লাথি মেরে পূজার সব উপকরণ তছনছ করে দিলো। তার বাড়িতে দেবী মনসার পুজো বন্ধ করে দিলো। তখন দেবী মনসা ক্ষেপে গিয়ে উপস্থিত হলো চাঁদের সামনে। তাকে নির্দেশ দিলো দেবীর বশ্যতা স্বীকার করতে। তাতে চাঁদ সওদাগর ক্ষেপে গিয়ে মনসাকে তাড়িয়ে দিয়েছিলো।
আরও পড়ুনঃ–  best running of application 2020
যাই হোক, পরিণামে রাগে ফুঁসে উঠে চাঁদ সওদাগরের নৌবহর ডুবিয়ে দিলো দেবী মনসা। সেই নৌবহরের একটায় ছিলো চাঁদ সওদাগর নিজেও। তার সাথের সবারই সলিল সমাধি ঘটলো, কিন্তু চাঁদকে তো মনসার জীবিত চাই। তার অসহায় আত্মসমর্পণ আর পূজাই তো কাম্য দেবী মনসার। তাই সে চাঁদকে বাঁচাতে একটুকরো কাঠ এগিয়ে দিলো। হাবুডুবু খেতে খেতে সেই কাঠ ধরতে যাবে, আর তখনই চাঁদ বুঝলো এটা দেবী মনসার সাহায্য। আত্মঅহমিকায় তাই সে দেবীর সেই সাহায্য ছুঁয়েও দেখলো না। হাবুডুবু খেতে খেতেই কোনোরকমে গিয়ে উঠলো জলের কিনারায়।
Ma Mansa মা মনসা
ভিন দেশে, অচিন রাজ্যে ভিখারি হয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াতে লাগলো চাঁদ, এককালের কেউকেটা চাঁদ সওদাগর। দেবী মনসা আবার এসে দাঁড়ালো। পূজা চাইলো তার। ঘৃণাভরে মনসাকে আবার প্রত্যাখান করলো চাঁদ সওদাগর। মনসা দেবী প্রস্তুতি নিলো পরের পর্বে তার খেল দেখাবার।
বহুকাল ধরে পথে পথে ভিখারির মতো ঘুরে এককালে সে গিয়ে উঠলো তার নিজের দেশে। পথ চিনে চিনে গিয়ে উঠলো তার বাড়ির উঠোনে। কিন্তু এতোবছর পরে আপন গৃহে ফিরেও শান্তি নেই। গিয়েই দেখলো আরেক শোক তার জন্যে অপেক্ষা করছে। দেবী মনসার অভিশাপে সাপের কামড় খেয়ে একে একে মারা গেছে চাঁদ সওদাগরের ছয় সন্তান। কষ্ট বুকে চেপে তাদের সবাইকেই ভেলায় করে নদীতে ভাসিয়ে দিলো চাঁদ সওদাগর আর তার স্ত্রী।
দেবী মনসা আরেকবার গিয়ে দাঁড়ালো চাঁদ সওদাগরের সামনে। চাঁদ সওদাগর তবুও ভাঙ্গে না। কঠিন তার হৃদয়। এবারে দেবী গেলো তার মাস্টারপ্ল্যানে। স্বর্গে গিয়ে দুই নর্তক-নর্তকীর সাথে পরিকল্পনা সাজালো সে।

লক্ষিন্দর বেহুলা কাহিনী

ইন্দ্রের রাজসভার এই দুই নর্তক-নর্তকী মানুষ রূপে জন্ম নিবে পৃথিবীতে। নর্তক ‘অনিরুদ্ধ’ চাঁদ ও তার স্ত্রী সনকার ঘরে জন্ম নিলো লখিন্দর হয়ে। আর নর্তকী ‘ঊষা’ জন্ম নিলো আরেক পরিবারে বেহুলা হয়ে।
পরিণত বয়সে এই লখিন্দর পড়লো অনিন্দ্যসুন্দরী বেহুলার প্রেমে। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হলো তাদের। কিন্তু বিয়ের সানাইয়ের সাথে সাথে চাঁদ সওদাগরের কানে ভাসছে দেবী মনসার হুমকি ধ্বনিও। বিয়ের রাতেই তার সন্তান মারা যাবে বলে হুমকি দিয়ে রেখেছিলো মনসা।
চাঁদ সওদাগর তাই শ্রেষ্ঠ সব কারিগরদের ডেকে আনলো। তাদের আদেশ দিলো লোহার বাসর ঘর তৈরি করতে। পুরো নিশ্ছিদ্র হবে সেই ঘর। এক ঢোকা এবং বের হবার দরজা ছাড়া আর কোনোকিছুরই প্রবেশ কিংবা বের হবার পথ থাকবে না। কাজ শুরু করে দিলো রাজকারিগরেরা। এদিকে দেবী মনসা স্বপ্নে দেখা দিলো এক কারিগরের। তাকে হুমকি দিলো বাসরঘরে একটা ছোট্ট ছিদ্র রাখবার। তা নাহলে তার বংশ নির্বংশ করে দিবে সে। ভয় পেয়ে কারিগর ঘুম ভেঙ্গে উঠে রাতের আঁধারে সেই কাজ সেরে রাখলো।
যথারীতি বাসর ঘরে সেই ছিদ্র দিয়ে সাপ ঢুকে পড়লো। তার বিষাক্ত ছোবলে মারা গেলো লখিন্দর। চাঁদ সওদাগর শোকে পাথর হয়ে গেলো। অক্ষম আক্রোশে ফুঁসতে থাকলো সে।
নদীতে ভেলায় চড়িয়ে ভাসিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হলো লখিন্দরকে। ঠিক এই সময়ে সবাইকে চমকে দিয়ে ভেলায় চড়ে বসলো বেহুলাও। সবার সব বাধা উপেক্ষা করে নির্বিকার বসে রইলো সে ভেলায়। লখিন্দরের সাথে সেও যাবে অজানার দিকে। অগত্যা তাকে সহই ভাসিয়ে দেয়া হলো ভেলা।
তারা প্রায় ছয় মাস ভেলায় করে যাত্রা করে নদীপথে। মৃত স্বামীর পাশে বসে নির্বিকার বেহুলা দেখে দূরপাড়ের সব গ্রাম, সেখানকার জীবনচিত্র (মূল কাব্যে মধ্যযুগের বাংলার জীবনচিত্রের এক নিদারুণ বর্ণনা পাবেন এখানে সবাই)। পার হয় অচেনা সব হাটবাজার। আর একান্তমনে জপ করে চলে দেবী মনসার নাম। দেবী মনসা যদি দয়াপরবশ হয়ে দেখা দেয় একটু! বেহুলাকেও বিস্ময় নিয়ে দেখে দূরপাড়ের মানুষেরা। লখিন্দরের লাশ পচে যাওয়া শুরু করলেও তার পাশেই বসে থাকে বেহুলা। ধীরে ধীরে এই মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষটার কথা ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম-গ্রামান্তরে। কোনো গ্রামের পাশ দিয়ে তাকে যেতে দেখা যাচ্ছে শুনলেই নদীর পাড়ে ভিড় জমায় সবাই একনজর দেখার জন্যে।
একবার এক গ্রামের নদীতীরে গিয়ে ঘটলো আশ্চর্য এক ঘটনা। বেহুলা দেখলো এক বুড়ি মহিলা কাপড় কাচতে এসেছে নদীর ঘাটে। সাথে তার ছোট্ট একটা ছেলে। ছেলেটার দুরন্তপনায় কাজে ভীষণ অসুবিধা হচ্ছিলো বুড়িটার। একপর্যায়ে আচমকা তাকে চড় দিয়ে মেরে ফেললো বুড়ি মহিলা। নির্বিঘ্নে কাপড় কাচার কাজ শেষ করলো। এরপরে ছোট্ট ছেলেটাকে আবার মরা থেকে জীবন্ত করে তুললো। তাকে নিয়ে ফিরে চললো বাড়ির দিকে। এসব দেখে হতভম্ব বেহুলা। তবে সাথে সাথেই আবার মনটা খুশিতে ভরে উঠলো। তার লখিন্দরকে এই বুড়িই বাঁচাতে পারবে আবার!
ভেলা তীরে ভিড়িয়ে সে পাগলের মতো খুঁজে চললো সেই বুড়িটাকে। কিন্তু কেউ তার হদিস দিতে পারে না। পরে খুঁজতে খুঁজতে এক জঙ্গলের কিনারায় দেখা মিললো তার। গিয়েই বেহুলা বুড়ির পায়ে পড়ে মিনতি জানালো লখিন্দরকে বাঁচিয়ে তুলতে। বুড়ি তখন তার পরিচয় দিলো। সে আসলে দেবী মনসার পালক মাতা। নাম ‘নিতা’। বেহুলার অনবরত দেবী মনসার জপ শুনে নিতা দয়াপরবশ হয়ে নদীর পাড়ের ঐ ঘটনার মাধ্যমে বেহুলাকে টেনে এনেছে তার কাছে। সে তার মেয়ের কাছে বেহুলাকে নিয়ে যাবে এই ঘটনার একটা সমাপ্তি টানতে।
ঐশ্বরিক ক্ষমতাবলে সত্যি সত্যিই দেবী মনসার কাছে উপস্থিত হলো বেহুলা। এরপরেই পায়ে লুটিয়ে পড়ে বেহুলা যতোভাবে সম্ভব বুঝালো মনসাকে, সে যাতে তার শ্বশুর চাঁদের সাথে সকল দ্বন্দ্বের অবসান ঘটায়। একপর্যায়ে মন গললো মনসার। সে রাজি হলো এক শর্তে। কী সেই শর্ত? কী আর! চাঁদ সওদাগরের পুজো লাগবে দেবী মনসার উদ্দেশ্যে। বেহুলা একটু দমে গেলো। তার দমে যাওয়া দেখে বাঁকা হাসি হাসলো দেবী মনসা। সেই হাসি দেখে এবারে দৃঢ়চিত্তে ঘোষণা করলো বেহুলা, চাঁদ সওদাগরের থেকে মনসাপুজো আদায় করবে সে। তবে বিনিময়ে শুধু লখিন্দরকে ফিরিয়ে দিলেই হবে না। চাঁদ সওদাগরের বাকি ছয় সন্তান আর ডুবে যাওয়া সেই নৌকাগুলো অর্থ-সম্পদসহ ফিরিয়ে দিতে হবে। মনসার এতে আপত্তি কী! তাই এই চুক্তি করে বেহুলা চললো পৃথিবীর দিকে ফিরে।
আবার কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, বেহুলাকে স্বয়ং ইন্দ্রের রাজসভায় নিয়ে হাজির করেছিলো নিতা। সেখানে একজন মানুষকে একটা মৃত লাশ কোলে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ইন্দ্র অবাক হয়ে জানতে চেয়েছিলো পুরো কাহিনী। বেহুলা শুনালো তার পুরো গল্প। ইন্দ্রের কাছে দাবী জানালো তার স্বামী লখিন্দরের জীবন ফিরিয়ে দেয়ার। ইন্দ্রের রাজসভার দেবতারা বললো, বেহুলা যদি দেবতাদের তুষ্ট করতে পারে, তবে তারা চিন্তা করে দেখবে। বেহুলা তখন তার অসাধারণ নৃত্যশৈলী দিয়ে মুগ্ধ করেছিলো ইন্দ্র ও তার রাজসভার দেবতাদের। ইন্দ্র তখন দেবী মনসাকে ডেকে অনুরোধ করলো এই ঘটনার একটা চূড়ান্ত পরিণতি টানার। মনসা তখন বেহুলাকে বলে, চাঁদ সওদাগর যদি তার পুজো করে, তবে সে যা কিছু কেড়ে নিয়েছিলো সব ফিরিয়ে দিবে চাঁদকে। (মৃত সঙ্গীকে পুনর্জীবিত করতে প্রেমের টানে স্বর্গ পর্যন্ত ধাওয়া করার ব্যাপারটা অবশ্য যুগে যুগেই ব্যবহৃত হয়েছে পৌরাণিক সাহিত্যে। ব্যবিলনীয় কাব্যে দেবী ইশতার গিয়েছিলো তার মৃত সঙ্গীকে পুনর্জীবিত করতে পাতালে, গ্রিক পুরাণে হেডিসের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলো অর্ফিয়াস তার প্রেমিকা ইউরিদাইসকে ফিরে পেতে। আর বাংলা সাহিত্যে এই থিমটা আমরা খুঁজে পাই মনসামঙ্গল কাব্যে বেহুলা-লখিন্দরের প্রেম কাহিনীতে।)
যাই হোক, বেহুলা উপস্থিত হলো চাঁদ সওদাগরের বাড়িতে। তাকে দেখে চমকালো সবাই। বেহুলা একে একে বললো তার ছয় মাসের ভেলাযাত্রার কথা, মনসা দেবীর মাতা নিতার কথা, বেহুলার স্বর্গে আরোহণের কথা, দেবরাজ ইন্দ্র ও দেবী মনসার সাথে সাক্ষাতের কথা। এরপরে সে তাকালো চাঁদ সওদাগরের দিকে। বললো, দেবী মনসা সবকিছু আবার ফিরিয়ে দিবে বলেছে। চাঁদ সওদাগরের হারানো ধন-সম্পদ, ছয় বড় সন্তান আর কনিষ্ঠ সন্তান লখিন্দর।
চাঁদ সওদাগরের মুখ ক্ষণিকের জন্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিলো। কিন্তু এগুলো পাবার বিনিময়ে তাকে কী করতে হবে, সেটা শুনে মুহূর্তেই সেই উজ্জ্বল মুখ দপ করে নিভে গেলো। ভীষণ আঁধার ঘনালো তাতে। সে একটুও ভাংবে না। শিবের পুজোই করে যাবে সে। দেবী মনসার কাছে নতি স্বীকার করবে না।
অনেক কাকুতি-মিনতি করলো বেহুলা। কিন্তু চাঁদ সওদাগরের মন গলে না। তখন বেহুলা বললো, দেবী মনসার উদ্দেশ্যে একটা ফুল ছুঁড়ে দিলেই হবে। সেটার দিকে ঘুরে তাকানোরও প্রয়োজন নেই। দেবী মনসা ওটাকেই চাঁদ সওদাগরের আত্মসমর্পণ হিসেবে ধরে নিবে বলেছে।
অতঃপর রাজি হলো চাঁদ সওদাগর। মনসার দিকে না তাকিয়ে বাঁ হাতেই পুজোর ফুল ছুঁড়ে দিলো সে। শিব ভক্তের আত্মসমর্পণ ঘটলো দেবী মনসার নিকট। প্রচলন ঘটলো সমাজে দেবী মনসার পূজার।
আর কী আশ্চর্য! একে একে চাঁদ সওদাগর ফিরে পেলো তার সাতটা বাণিজ্যের নৌকা। তার চেয়েও বড় ব্যাপার বাড়িতে ফিরে এসেছে তার সন্তানেরা জীবিত হয়ে। বেহুলাও ফিরে পেয়েছে তার স্বামী লখিন্দরকে। আবারো ফিরে এসেছে চাঁদ সওদাগরের সুখের জীবন।
কিন্তু দেবী মনসা? সে হয়তো চাঁদ সওদাগরকে তার একনিষ্ঠ ভক্ত বানাতে পারেনি, কিন্তু তাকে অসহায় আত্মসমর্পণ তো করিয়েছে! আর বেহুলার মতো ভক্তের মাধ্যমে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছে তার পুজো। ভক্তসমাজে জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে তার।
এই কাহিনিটি নেওয়া হয়েছেঃ ফেসবুকের এক পোস্ট থেকে- ফেসবুক পোস্ট

মঙ্গল কাব্য পরিচয় 

মঙ্গলকাব্য গুলি ধর্মীয় বিচারে দেবদেবীর মহিমা স্থাপন কাহিনি, ইতিহাসের বিচারে মধ্যযুগীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতার পটভূমিতে আত্মরক্ষার পুরাণ।

Winternitz এর মতেঃ- as regards the upapuranas, they do not in general differ essentially from the purnace expert in as much they are even more exclusively adapt to sweet the purpose of local cult and the religious need to separate secys

– “A history of Indian literature”

মঙ্গলকাব্য গুলি রচনা প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল দৈবশক্তির মহিমা প্রচার। এই মহিমা প্রচার এর জন্য মরতে আভির্ভূত মঙ্গল কাব্যের নায়ক নায়িকারা প্রায় সকলেই শাপগ্রস্ত এবং মর্ত জীবন যাপনের পর সংশোধিত বলে কথিত হয়েছে।

তবু মঙ্গলকাব্য শুধু দৈব মহিমা প্রচার এর নিদর্শন রূপে প্রকাশ পায়নি প্রকাশ পেয়েছে সাহিত্যের দর্পণ হিসেবেও।  তাই দেবদেবীদের মহিমা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মানব জীবনের সুখ-দুঃখ হাসি-কান্না সমস্ত কিছু প্রকাশ পেয়েছে এই মঙ্গলকাব্য গুলিতে যেখান থেকে আমরা জানতে পেরেছি সেই সময় পর্বের মানুষের জীবনযাত্রা।

Exit mobile version